আমেরিকায় পিএইচডি
আমেরিকায় পিএইচডি কেমন সহজ সেটা সংক্ষেপে বলি তাহলে।
পিএইচডি স্টুডেন্টদের প্রতি সেমিস্টারে ৩-৪ টা এডভান্স কোর্স নিতে হয় (required course শেষ না হওয়া পর্যন্ত)। প্রায় প্রতিটা কোর্সেই থাকে ৫-৮ টা Homework, ৫-৮ টা Quiz, midterm, final exam। অনেক কোর্সেই এডিশনালি project, term paper, presentation থাকে। দেখা যায় প্রতি সপ্তাহেই ৪-৫ দিন ক্লাস থাকে, ২-১ টা homework থাকে। সেমিস্টারের শেষের দিকে টার্ম পেপার, প্রেজেন্টেশনের প্রেসার থাকেই। ম্যাথ কোর্সগুলি ছাড়া অন্য বেশিরভাগ কোর্সই এত এডভান্স লেভেলের যে এইগুলার হোমওয়ার্ক এর সল্যুশন বেশিরভাগ সময়ই chegg, quora তে পাওয়া যায়না। বেশ বুঝে বুঝে অনলাইন লেকচার, বই ঘেঁটে সলভ করতে হয়। বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটিতে ৯০% এ A grade হওয়ায় সবগুলি assignment এই ভালো করতে হয়, নাহলে ভালো গ্রেড রাখা সম্ভব না। প্লাস, সবচেয়ে বড় ঝামেলা হলো, Assistantship ধরে রাখতে হলে একটা নির্দিষ্ট CGPA মেইন্টেন করতে হয়, নাহলে assistantship থাকবে না। So, রেজাল্ট খুব খারাপ করারও অপশন নাই। এর বাইরেও অনেক পিএইচডি স্টুডেন্টদেরই তার রিসার্চ রিলেটেড স্পেসিফাইড কোর্স, ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, সিক্স সিগমা গ্রিন বেল্ট বা ব্ল্যাক বেল্ট এই ধরনের সার্টিফিকেশন কোর্স করতে হয়।
এইবার আসি আসল বিষয়ে; রিসার্চ। আপনার কোর্সের লোড যতই থাকুক, আপনাকে রিসার্চ ল্যাবে নিয়মিত সময় দিতেই হবে। যেহেতু আপনি পিএইচডি স্টুডেন্ট, রিসার্চটাই main focus। আর আপনি research assistant হিসেবে এপয়েন্টেড হলে তো কথাই নাই, এটা তখন আপনার জবও। ৯-৫টা ল্যাবের অফিসিয়াল টাইম হলেও পিএইচডি স্টুডেন্টদের রিসার্চ ঘড়ি ধরে চলে না কখনোই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক্সপেরিমেন্ট আর টেস্টিং গুলি এত time consuming যে দিনে শুরু করলে শেষ করতে করতে রাত হয়ে যায়। প্রথম দিকে প্রচুর trial and error এর মধ্যে দিয়ে কাজ করতে হয়। Output বা রেজাল্ট যা চাচ্ছেন একবারে আসবে না। বারবার বিভিন্ন প্যারামিটার চেঞ্জ করে করে আগের এই কাজের পেপার আর লিটারেচার ঘেঁটে একটু একটু করে আগাইতে হবে যেটা প্রচুর ধৈর্যের এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। কাজের ধরন অনুসারে আপনার অনেকগুলি instrument আর testing ম্যাসিনের উপরে ট্রেনিং নিতে হবে। তারপরে অনেক সময়ই এমন হয় যে তিন মাস কাজ করে বুঝতে পারলেন আপনার মেথডোলজি কাজ করছে না, এই প্রসেসে সঠিক রেজাল্ট আসবে না। তখন পুরা প্রজেক্টই বাদ, হয়তো নতুন আইডিয়া নিয়ে শুরু থেকে শুরু করতে হয়। আপনি যদি NSF, DoD, NASA এইসব বড় ফান্ডে কাজ করেন তাহলে প্রতি ৫-৬ মাসে এরা আপনার কাছে আপনার কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট চাবে। রিপোর্ট হয়তো সাবমিট করবে আপনার সুপারভাইজার, কিন্তু লিখতে হবে আপনাকেই। স্ট্যাবল ফান্ডিং না থাকলে এর বাইরে অনেক রিসার্চ স্টুডেন্টকেই গ্রান্ট লিখতে হয়, ওই প্যারার details আর নাই লিখলাম।
এইসব কাজের পাশাপাশি অনেক ল্যাবেই বছরে average এ দুইটা peer reviewed publication এর চাপ থাকে। এত কাজের ফাঁকে বসে বসে পেপার লিখতে হবে। পেপার লিখতে ধরেন লাগলো তিন মাস, কাজ কিন্তু শেষ না। সাবমিশনের পরে reviewer দের থেকে multiple correction আসবে, অনেক সময় কিছু test ও আবার করতে হয়। And each of these things will always come with a deadline. এইজন্য আমরা মজা করে বলি প্রতিটা পিএইচডি স্টুডেন্ট এর চোখের সামনে সবসময় একটা ভার্চুয়াল ঘড়ি দোলে!
শেষ? নাহ! অনেকের এর বাইরেও teaching করতে হয়। আমার সপ্তাহে অন্তত দুইদিন যায় class prepare করতে এবং তাদের খাতা grade করতে। পিএইচডি স্টুডেন্টদের কমপক্ষে একটা PhD qualification exam এ পাস করতে হয়। যারা multidisciplinary Subject এ পিএইচডি করছে তাদের অনেক ক্ষেত্রে দুইটা Qualification Exam থাকে। এইটা আরেক ভয়াবহ জিনিস। এইখানে মূলত চেক করা হয় আপনি যে মেজরে PhD করছেন সেই ফিল্ডে পিএইচডি নেয়ার মতো minimum theoretical knowledge আপনার আছে কিনা। ওই ফিল্ডের সবগুলি কোর্স নিয়ে এই এক্সাম। পাস না করা পর্যন্ত আপনি PhD candidate হতে পারবেন না। অনেকের মাল্টিপল এটেম্পট লাগে পাস করতে। এই কোয়ালিফিকেশন এক্সামের জন্য পড়াশোনা করতে আপনি কিন্তু এডিশনাল টাইম পাবেন না। এই ল্যাবে কাজ, অন্য কোর্সওয়ার্ক এইগুলার মাঝেই করতে হবে।
Pass করে PhD ক্যান্ডিডেট হলে আপনাকে আপনার Phd committee (৫-৭ জন প্রফেসরের কমিটি) এর সামনে আপনার পিএইচডি research এর pre-defence বা oral qualification exam দিতে হবে (Written and formatted research proposal report সহ)। এখানে পুরো কমিটি মিলে আপনার পিএইচডির কাজের research impact, genuineness, novelty, research needs এইগুলা সব যাচাই করবে। মানে কাজটি ইউনিক কিনা, এই কাজের আসলেই প্রয়োজনীয়তা বা উপযোগ আছে কিনা, কাজের method scientifically accurate কিনা এসব দেখবে। এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই আপনি পাস করলেও আপনাকে একগাদা সাজেশন, কারেকশন, নতুন ডিরেকশন ইত্যাদি ধরায় দিবে যেগুলি নিয়ে আবার আপনার কাজ করতে হবে ল্যাবে। তাদের সব এক্সপেকটেশন ১০০ তে ১০০ মিললে তখনই কেবল ফাইনাল PhD defence এর জন্য দাঁড়াতে পারবে।
এরপর কেউ যখন বলে ল্যাবে গেলেই পিএইচডি হয়ে যায় তখন কেমন লাগে!
তবে আমি সবসময়েই বলি, পিএইচডি লাইফের সবচেয়ে কঠিন পার্ট এইসব একাডেমিক প্রেসার না। এরচেয়ে বড় প্রেসার হচ্ছে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রেসার। পাঁচ বছর অনেক অনেক সময়। যে বয়সে আপনার ফ্রেন্ড সার্কেল সিক্স ডিজিট কামাচ্ছে আপনাকে হয়তো এখনো হিসাব করে বাজার করতে হচ্ছে। চোখের সামনে মা-বাবাকে বৃদ্ধ হতে দেখছেন, তাদের আরাম আয়েশের জন্য কিছুই করতে পারছেন না। বেশিরভাগ পিএইচডি স্টুডেন্টদেরই দেখেছি এই বয়সে এসে মা-বাবাকে হারাতে হয়, লাশটাও সময় মতো দেখতে যেতে পারেন না। বয়স হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে করতে হবে বা পরিবার বড় করতে হবে এইসব সামাজিক ও মানসিক চাপ থাকে। আরো অনেক অনেক কথা যেগুলো বলা যায়না।
ডিমোটিভেটেড করছি না। সবথেকে প্রেস্টিজিয়াস ডিগ্রি বলেই তো এত কষ্ট করেও মানুষ পিএইচডি করতেছে। কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্ট, ধৈর্য আর মোটিভেশন থাকলেই এই লাইনে আশা উচিত। জাস্ট দেশের বাইরে আসার জন্য আসলে এই প্রেসার টানা এত সময় ধরে নেয়া অনেক কঠিন।
** এখানে বলা সবগুলি পয়েন্টই যে সব পিএইচডি স্টুডেন্টদের জন্য প্রযোজ্য এমন অবশ্যই না। দুই একটা ঝামেলা কমবেশি হতে পারে। ভার্সিটি, ল্যাব, সুপারভাইজার ভেদে একেক জনের চ্যালেঞ্জ একেক রকম। **
Comments
Post a Comment